এসএসএফ নিরাপত্তা নিয়ে ‘কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি’—ইউনূসকে ঘিরে সমালোচনার জবাব শফিকুল আলমের

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) বিদায়ের পর এক বছরের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘কোনো আইন ভঙ্গ করেননি’—এ দাবি করেছেন তার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এসএসএফের প্রক্রিয়াগত প্রয়োজনীয়তার কারণে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়েছে, কেননা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এসএসএফ কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না।”

শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পদক্ষেপকে ‘অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, আইনি কাঠামোর মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তার দাবির পক্ষে তিনি ২০০১ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান (Latifur Rahman)-এর প্রশাসন থেকে জারি করা একই ধরনের একটি আদেশের কপি ফেইসবুকে প্রকাশ করেন। তার মতে, অতীতেও একই প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক গেজেটে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করা হয়।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী এ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা পাবেন।

আইনের ২(ক) ধারায় বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের পাশাপাশি সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিকেও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিদায়ী সরকারপ্রধানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা পান না; এ জন্য আলাদা করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। সেই প্রজ্ঞাপন জারি হলেই তা কার্যকর হয়।

যদিও শফিকুল আলম ‘কোনো আইন ভঙ্গ হয়নি’ বলে দাবি করেছেন, সমালোচকদের একটি অংশের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে না এনে গোপন রাখার চেষ্টা করেছে—আর সেই প্রশ্ন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।