রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি মিথ্যা অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস (Mirza Abbas) বলেছেন, মিথ্যা বলা যেমন মহাপাপ, তেমনি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে তার বদনাম করাও গুরুতর অন্যায়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল মাঠে আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রমনা থানা বিএনপির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)–র রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “মুরুব্বিরা শিক্ষা দিয়ে গেছেন—মিথ্যা বলা মহাপাপ। তাই মিথ্যা বলবেন না। কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার বদনাম করা বড় পাপ। এই পাপ থেকে দয়া করে নিজেরা দূরে থাকুন এবং আমাদেরকেও দূরে রাখুন।”
তিনি আরও বলেন, তার এলাকায় নির্বাচনে ভোট কারচুপি না হলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এত ভোট পেতে পারত না। ঢাকা-৮ আসনের একটি ওয়ার্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, সেখানে এমন কোনো আত্মীয় আছে কি না যিনি তাদের ভোট দিয়েছেন—এটি তারা বলতে পারবেন না।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি কিন্তু নাম ধরে বলতে পারব কারা আমাকে ভোট দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের রাতে কয়েকটি স্কুলে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা ভোট রক্ষা করেছেন।
তার ভাষায়, যদি পাহারা না দেওয়া হতো, তাহলে অনেক কেন্দ্রেই সিল মেরে ভোট নিয়ে নেওয়া হতো। তিনি অভিযোগ করেন, অদ্ভুত কায়দায় নির্বাচন প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে এবং তার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, তার এলাকায় পরাজয়ের ইতিহাস নেই। তার মতে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন হয়নি—এ কথা সবাই জানে।
তিনি আরও বলেন, “আমি কোন জায়গায় কত ভোট পেয়েছি, সেটি আপনাদের দেখার বিষয় নয়। এই এলাকায় আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। সুতরাং আমার ভোটের কোনো অভাব নেই।”
মির্জা আব্বাস প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে আপনারা এত ভোট কিভাবে পেলেন—এটাই আজ জাতির সামনে আমার প্রশ্ন।” তিনি দাবি করেন, সুযোগ পেলে তিনি প্রমাণ করতে পারবেন যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।
রমনা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মহানগর ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


