যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তার জবাবে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তিনি বলেছেন, ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং এ ধরনের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)–এর লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশটিকে শর্তহীনভাবে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় যুদ্ধ চলতে থাকবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “তারা আমাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেই স্বপ্ন আমরা কবরে নিয়ে যাব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ (Fox News)–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর “আমাদের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি” পরিচালিত হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এসব স্থাপনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল ড্যান কেইন (General Dan Caine) জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তার মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের হার প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্ট-কমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওই সংখ্যা আরও প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে।


