ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)-র নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei)-র দ্বিতীয় সন্তান। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট (Assembly of Experts)-এর ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভোটে তাকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ভোটাভুটির পর সংস্থাটি নতুন নেতার প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল (Israel)-এর যৌথ হামলায় স্ত্রী ও মেয়েসহ নি’\হত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও প্রা’\ণ হারান।
সেই সময় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকেও হ’\ত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সময় তিনি তেহরানে ছিলেন না। ফলে সে সময় প্রাণে বেঁচে যান খামেনিপুত্র। তিনি তখন কোথায় অবস্থান করছিলেন তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। দুটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)।
জানা গেছে, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ওই সময় যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রা’\ণ হারান। পরদিন ১ মার্চ ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
হামলায় খামেনি নি’\হত হওয়ার পর থেকেই মুজতবা খামেনিকেই ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির দ্বিতীয় সন্তান মুজতবা খামেনি ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলছিলেন। তিনি মধ্যম সারির একজন আলেম হিসেবে পরিচিত হলেও ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের।
কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত এই ধর্মীয় নেতা সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও কাজ করে আসছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মুজতবা খামেনি এখনো জীবিত আছেন এবং সুপ্রিম লিডার নি’\হত হওয়ার সময় তিনি তেহরানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ঠিক কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে ওই হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানে উপস্থিত না থাকায়ই তিনি বেঁচে যান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল ওয়াশিংটন।


