চট্টগ্রামে এক ধ্বংসাত্মক ঘটনায় শিল্পপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির ও সায়েম। তাদের কাছ থেকে একটি এসএমজি (সাবমেশিনগান), একটি বিদেশি রিভলভার, পিস্তল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গু’\লি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাজ্জাদ আলী খানের বাহিনীতে কাজ করার জন্য নতুন সদস্যদের পবিত্র কুরআন বা অন্য ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নিতে হয়। শপথের ভিডিও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদের কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়ার পরই তারা বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে। অপারেশন এস-ড্রাইভে রিমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সদস্যরা কুরআন হাতে নিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিচ্ছেন। ভিডিওতে একজন যুবক বলতে শোনা যায়, ‘জীবন-মরণ যাই হোক, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।’ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের মুখ ঝাপসা রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামে শিল্পপতির বাসায় মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ এবং গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। ৫ আগস্টের পর নগরী এবং উত্তর জেলায় সাজ্জাদ বাহিনী একের পর এক খুনখারাবি ও চাঁদাবাজিতে প্রশাসনকে অস্থির করে রেখেছিল। বিদেশে বসে থেকেও নিজের সন্ত্রাসীদের দিয়ে খুন ও চাঁদাবাজি করানো এই বাহিনী সিএমপি এবং জেলা পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শিল্পপতির বাসায় গুলিবর্ষণের পর সিএমপি পুরো নগরীকে ১০ ভাগে ভাগ করে অপারেশন এস-ড্রাইভ শুরু করে। এই অভিযানে কয়েকশ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে ছিল মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি পিস্তল, গোলাবারুদ ও ইয়াবা। তবে শিল্পপতির বাসায় হামলাকারী সাজ্জাদের সহযোগীদের খুঁজে পাওয়া পুলিশকে আরও নিশ্চিত তথ্য প্রদান করে।
সাজ্জাদ আলী খানের বাহিনীতে বর্তমানে ২০ থেকে ২২ জন ভয়ংকর সন্ত্রাসী রয়েছে। তাদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন, হেলাল ওরফে মাছ হেলাল উল্লেখযোগ্য। ছোট সাজ্জাদের গ্রেফতারের পর বাহিনীর নেতৃত্ব এখন রায়হানের হাতে। রায়হানের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী সরওয়ার বাবলাকে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে এই বাহিনী জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকা এবং ৫ থানার কয়েক লাখ মানুষ বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অব্যাহত খুন ও চাঁদাবাজির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
