যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের নাম। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের শুল্কনীতি বাতিল করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা বিষয়ে এই তদন্ত চলছে। এর ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর ওপর গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদি অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে এই দেশগুলোর পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োগ শুরু হতে পারে। তদন্তের আওতায় বাংলাদেশসহ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডা এই তালিকায় নেই।
গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেছে, প্রেসিডেন্টের কাছে এই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা নেই এবং তা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়।
রায়ের পরপরই ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং হুমকি দিয়েছেন, তা ১৫ শতাংশে বাড়ানো হতে পারে। নতুন এই তদন্তের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরও জোরালো শুল্ক হুমকি প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে, এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা, যা মার্চের শেষ দিকে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।


