শরীফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে গ্রে’\প্তা’\র, দেশে ফেরানো নিয়ে নীরব দিল্লি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রে’\প্তা’\র করেছে ভারতের পুলিশ। গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রে’\প্তা’\র করে।

পরবর্তীতে ভারতের আদালত তাদের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। এ পরিস্থিতিতে আলোচনায় উঠে এসেছে—এই দুই আসামিকে কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি (New Delhi)-তে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of External Affairs, India)-এর সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal)।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান—শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হ’\ত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হবে কি না, অথবা তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেওয়া হবে কি না। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কিছু বলার নেই।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (DGFI)-এর প্রধানের ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন এবং রাইসিনা ডায়ালগ (Raisina Dialogue)-এর অবসরে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলংকা (Sri Lanka) ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনা করে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পরিশোধিত পেট্রোপণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে।

ভারত–বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। ২০০৭ সাল থেকে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে ডিজেল কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে সই করে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সেই চুক্তির আওতায় এখনো নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হবে।