দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সাম্প্রতিক মর্মান্তিক দু’\র্ঘটনায় ২৬ প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই আবারও সামনে এলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের দৃশ্য। এবার জায়গা সংকটের মধ্যেও যাত্রীসহ একটি বাসের একাংশ ফেরির বাইরে রেখেই নদী পার করা হয়েছে, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফেরিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলেও বাসটির কর্মচারীরা জোর করে সেটিকে ফেরিতে তোলেন। বিষয়টি নিয়ে হাসান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি, ফেরির দায়িত্বে থাকা লোকজন বাসটি তুলতে চাননি। কিন্তু বাসের কর্মচারীরা জোর করেই সেটি উঠিয়ে নেয়।’
ঘটনাটি ঘটার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তে নামা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু জানান, ঘটনাটি আগের দিনের হওয়ায় সরেজমিনে বাসটি পাওয়া যায়নি। ফলে বাসের চালক বা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট ফেরির সুপারভাইজার, চালক ও কর্মচারীদের ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সড়ক ও জনপদের পটুয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন বলেন, অনেক সময় বাসচালকেরা জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকেন। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রা’\ণহানির ঘটনার পরও এমন ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, কঠোর নজরদারি ও বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
