যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সমর্থন জানানোয় ইরাকের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে বিমান হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি (Ali Khamenei) নি’\হত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তার এই অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে পাঠানো এই বার্তায় মোজতবা খামেনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি (Ali al-Sistani)-এর প্রতি। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি আগ্রাসনের বিপক্ষে ইরাক যে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) জানিয়েছে, ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’ এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এই বার্তাটি হস্তান্তর করা হয়। তবে কীভাবে বা কোন মাধ্যমে বার্তাটি পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মোজতবা খামেনির তৃতীয় লিখিত বক্তব্য।
তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনার আগুন আরও উসকে দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইরানের এক ‘উচ্চপর্যায়ের’ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, তবে তিনি নিশ্চিত নন যে মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন কি না।
ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমরা খামেনির ছেলের কাছ থেকে কোনো বার্তা পাইনি… তিনি বেঁচে আছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নই।” এর আগে পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে মোজতবার একটি বার্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হলেও তা অন্য একজন পাঠক পড়ে শুনিয়েছিলেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ করা হলেও সেগুলো সাম্প্রতিক কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর রুহুল্লাহ খোমেনি (Ruhollah Khomeini) এবং আলী খামেনির পর মোজতবা খামেনি ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্ব নিয়ে যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি তার শারীরিক অবস্থা ঘিরে অনিশ্চয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে, তার ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকলেও সেখানে কেবল লিখিত বার্তাই প্রকাশ করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইঙ্গিত দিয়েছে, তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে খুব শিগগিরই জনসমক্ষে হাজির হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন বার্তাটি মূলত ট্রাম্পের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করতেই কৌশলগতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়—নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার মাঝেও ইরান নিজের অবস্থান দৃঢ় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: এনডিটিভি


