ইরান ‘সম্মানের নিদর্শন’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন এক চমকপ্রদ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসি (Washington DC)-এর উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকেই হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে এসব বড় তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করবে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু (Anadolu Agency)।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আজ তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে। ঠিক কীভাবে এটিকে সংজ্ঞায়িত করব, তা জানি না। তবে এটি একধরনের সম্মানের নিদর্শন—২০টি বড় তেলবাহী জাহাজ, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসছে।”
এই বক্তব্যের মধ্যেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান (Iran)-এর সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তাঁর মতে, খুব দ্রুতই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে—যদিও একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, আলোচনার শেষ ফল অনিশ্চিতও হতে পারে।
“আমি ইরান বিষয়ে একটি সমঝোতা দেখতে পাচ্ছি। এটি খুব দ্রুত ঘটতে পারে,”—বলেছেন ট্রাম্প।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ—দুই ধরনের আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে, তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—ইরানে এখন এমন একটি ‘নতুন নেতৃত্ব’ কাজ করছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও কাজ করেনি এবং তারা তুলনামূলকভাবে ‘খুবই যুক্তিসংগত আচরণ’ করছে।
তবে প্রেক্ষাপট বলছে, পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছিল, কোনো যুদ্ধবিরতি হলে তা তেহরানের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ীই হবে।
তারপরও ট্রাম্প দাবি করছেন, তাঁর প্রস্তাবের বেশিরভাগ পয়েন্টই ইরান মেনে নিয়েছে এবং সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবেই এই তেলবাহী জাহাজগুলো পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটি কি বাস্তব কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি, নাকি কৌশলগত বার্তা?


