খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের পেছনের নাম প্রকাশ: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-কে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন গ্রেফতার সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।

বিতর্কিত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর সংঘটিত ওই বহুল আলোচিত উচ্ছেদের আগে একটি বিশেষ বৈঠকে পুরো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ (Dhaka Metropolitan Detective Police)-এর হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।

জানা যায়, উচ্ছেদের আগের দিন সন্ধ্যায় একটি বিশেষ বাহিনীর সদর দপ্তরে তৎকালীন প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। সেখানেই নির্ধারণ করা হয়, কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রাখে ডিজিএফআইয়ের একটি অংশ, আর মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ ও র‌্যাব। পুরো অভিযানের ভিডিও ধারণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল এক সেনা কর্মকর্তাকে।

রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে শেখ মামুন খালেদ দাবি করেন, এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরসহ উচ্চপর্যায়ের একাধিক সেনা কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পুরো অভিযানের ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘মু’ আদ্যাক্ষরের এক মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে। এছাড়া আইএসপিআর ও ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রায় ৩৮ বছর ধরে বসবাস করা এই বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই বাসভবন থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং প্রতিবাদে হরতালও পালিত হয়।

অন্যদিকে, একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছের। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে এক-এগারো সরকারের সময় বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে তাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এক-এগারো সরকারের আরেক আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও মানব পাচার আইনে করা মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলেও নানা কারণে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা করতে এগিয়ে আসছেন না।