ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলট নিখোঁজ—সংঘাতে নতুন উত্তাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান গু’\লি করে ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রথম বিমানটি ছিল দুই আসনের একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল জেট, যা ইরানের ভেতরে ভূপাতিত হয়। এতে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে, অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে অভিযান চালাচ্ছে তেহরান।

দ্বিতীয় বিমানটি ছিল একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান, যা কুয়েতের আকাশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এর পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার শিকার হয়। তবে সেগুলো কোনোভাবে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সূত্র।

যদিও হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এফ-১৫ হারানো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষায়, “না, একদমই না—এটা যুদ্ধ।”

এই ঘটনা ঘটেছে এমন সময়, যখন এর আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমায় নির্বিঘ্নে উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে।

এদিকে ইরান পাল্টা অবস্থান আরও জোরালো করেছে। দেশটির একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, কেউ যদি মার্কিন পাইলটকে জীবিত আটক করতে পারে, তবে তাকে মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে। এমনকি এক গভর্নর ‘শত্রু বাহিনীর সদস্যদের’ আটক বা হ’\ত্যা করতে পারলে সম্মাননার ঘোষণাও দিয়েছেন।

ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যেখানে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf) কটাক্ষ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এখন ‘শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন’ থেকে নেমে এসে পাইলট খোঁজার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘ইরানকে বহুবার হারানোর দাবি করার পর এখন তারা বলছে—কেউ কি আমাদের পাইলটদের খুঁজে দিতে পারবে?’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।