সংসদে বিতর্ক: ‘জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধা নেই’ দাবির জবাবে স্পিকারের পাল্টা বক্তব্য

বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী-তে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই— স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন মন্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজে দেখেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় স্পিকার ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে এই কথোপকথন হয়।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম গত রোববার সংসদে বলেন, তিনি নবম সেক্টরে মেজর জ‌লিলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন ক্যাপ্টেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং নবম সেক্টরে যুদ্ধ করেন। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাকে বীরবিক্রম খেতাব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সংসদে বক্তৃতার সময় স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাকে দেখলে কারও ভালো লাগতে পারে, আবার কারও ভালো নাও লাগতে পারে, তবে তিনি ১৯৭১ সালের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং বিএনপির কয়েকজন এমপির নামও উল্লেখ করেন।

এরপর প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা হৈচৈ শুরু করলে স্পিকার হস্তক্ষেপ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন এবং তিনি নিজে গাজী নজরুল ইসলামকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখেছেন।

স্পিকারের এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা শান্ত হন এবং প্রতিমন্ত্রী পুনরায় তার বক্তব্য শুরু করেন।