স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা বাড়ছে, তেমনি সংসদেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর আলোচনায় অংশ নিয়ে হান্নান মাসউদ (Hannan Masud), যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)-এর সংসদ সদস্য, বিলটির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, প্রস্তাবিত এই বিলটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর ঘোষিত ৩১ দফা ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, ইশতেহারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান থাকলেও নতুন বিলে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ও ‘জনস্বার্থে অপসারণ’-এর মতো অস্পষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্ন তুলে হান্নান মাসউদ জানতে চান, এই সুযোগ নিয়ে কি বিএনপি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (Bangladesh Awami League)-এর মতো আচরণ করছে? তার মতে, অস্পষ্ট আইনি ধারা ব্যবহার করে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের মাধ্যমে দলীয় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-এর শাসনামলে গৃহীত কিছু অধ্যাদেশ পরবর্তীতে আইনে রূপ দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নজির রয়েছে, যা বর্তমান প্রস্তাবনার ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় ভোট কারচুপি, কেন্দ্র থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং অনিয়মিত ভোটগ্রহণের মতো ঘটনা ঘটছে।
হান্নান মাসউদ সতর্ক করে বলেন, এই বিল পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (Mir Shahe Alam) বলেন, বিলটি পাস না হলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্বাচন আয়োজন ব্যাহত হতে পারে। তার মতে, এতে পুরনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধীদের তোলা কারচুপির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদে এই বিলকে ঘিরে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।


