লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ (Khawaja Muhammad Asif)-এর কঠোর মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-এর দপ্তর।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘মানবতার অভিশাপ’ হিসেবে অভিহিত করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইসলামাবাদে যখন একটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখন পাকিস্তানের একজন শীর্ষ মন্ত্রীর এমন মন্তব্যকে ইসরায়েল তাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উসকানি হিসেবে দেখছে। মূলত গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান খাজা আসিফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ইসরায়েল লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি লেখেন, ‘ইসরায়েল একটি শয়তানি শক্তি এবং মানবতার জন্য অভিশাপ।’
তিনি আরও বলেন, গাজা, ইরান এবং এখন লেবাননে ধারাবাহিকভাবে রক্তপাত ঘটিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে যারা ছিলেন, তাদের প্রতিও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার এই বিস্ফোরক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
এর জবাবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার আহ্বানের সামিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরও দাবি করে, কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়, বিশেষ করে যারা নিজেদের শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরে।
ইসরায়েলি পক্ষ মনে করছে, পাকিস্তানের এই অবস্থান তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এটি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করলেও, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—এ কথা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বারবার অস্বীকার করছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩০৩ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৮ জনে। ক্রমবর্ধমান এই প্রাণহানি এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা ইসলামাবাদে চলমান শান্তি উদ্যোগকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


