লেবাননে হামলা ঘিরে উদ্বেগ, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ফ্রান্স-পাকিস্তানের জোর আহ্বান

লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘনের’ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স (France) ও পাকিস্তান (Pakistan)। শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার (Ishaq Dar) এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট (Jean-Noël Barrot)-এর মধ্যে ফোনালাপে এই উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই লেবাননের চলমান অস্থিরতা নিরসনে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও সম্মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। ফ্রান্সও শুরু থেকেই এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সঙ্গে লেবাননের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।

ইশাক দার বলেন, “আমরা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। এটি শুধু একটি দেশের বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক হামলা চালানো হয়।

এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫৪ জন নি’\হত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

ফ্রান্স ও পাকিস্তান মনে করছে, লেবাননকে বাদ দিয়ে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া কঠিন। ফোনালাপে দুই নেতা একমত হয়েছেন, ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং পুরো শান্তি প্রক্রিয়াই হুমকির মুখে পড়বে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: আল-জাজিরা (Al Jazeera)