ইরানের সঙ্গে টানা আলোচনা, তবু চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন জেডি ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সেই ব্যর্থ আলোচনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন জেডি ভ্যান্স (JD Vance)। রোববার (১২ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera)-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট শুরুতেই পাকিস্তান (Pakistan)-এর প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র প্রশংসা করে তিনি বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থেকে থাকলে তার দায় পাকিস্তানের নয়।

ভ্যান্স বলেন, গত ২১ ঘণ্টা ধরে ইরান (Iran)-এর সঙ্গে তারা ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তার ভাষায়, এটাই আপাতত ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আলোচনার শেষে কোনো সমঝোতা হয়নি। আর এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব, আর কোন কোন ক্ষেত্রে নয়—সেটিও পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি বলেই শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়নি।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইরান যু’\দ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে ৪৭ বছর পর দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসেছে বলে এতে বলা হয়েছে। জেডি ভ্যান্স এবং বাঘের গালিবাফ (Bagher Ghalibaf)-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা লেবানন সংকট, ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। শান্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সংকট নিরসনের পথে এক বিরল কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনাকেই সামনে আনার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই সরাসরি আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশেই এগিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক চলার পর নৈশভোজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। পরে আবার আলোচনা শুরু হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে লিখিত প্রস্তাবও বিনিময় হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রথম দফার আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে এগোনোর বিষয়ে প্রতিনিধিরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল পরোক্ষভাবে। সে সময় উভয় পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করছিল এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। তবে শনিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। মধ্যস্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে আলজাজিরা জানায়, ওই পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেন। আলোচনার টেবিলে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউস (White House) পরে সরাসরি বৈঠকের তথ্যও নিশ্চিত করে।

ইরানি প্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠ সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরই তারা আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়। এটি ছিল তাদের ১০ দফা দাবির অন্যতম একটি। তবে বাস্তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।