সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা, ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ—দ্রুত পদক্ষেপে কৃতজ্ঞতা

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) (Center for Kidney Diseases and Urology – CKD) হাসপাতালে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা ও ‘মব’ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম (Prof. Dr. Kamrul Islam) বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি—যিনি যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত—নানা ধরনের মালামাল সরবরাহের চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এতে একাধিকবার বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতসারে ডিম ও চাল সরবরাহ করতেন এবং বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি মূল্য নিতেন। তবে হাসপাতালটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় পরবর্তীতে সরাসরি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন এবং কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এর আগেও ২৯ মার্চ হাসপাতালে এসে কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩০ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানা (Sher-e-Bangla Nagar Police Station)-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করলে তারা ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম তুলে ধরে জানায়, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি রোগী ও কর্মীদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।