জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (Sarjis Alam)। তিনি বলেন, তাদের অবস্থান হওয়া উচিত দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে, কোনো দলের রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে নয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (July Mass Uprising)–এর শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) ও আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর মধ্যে একটি ‘অলিখিত সমঝোতা’ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি অতীতে আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, এমনকি শেখ হাসিনাও এখন দেশের বাইরে থেকে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত এবং হত্যা মামলার অনেক ‘দাগি আসামি’ বর্তমানে জামিনে মুক্তি পাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেগুলো সংস্কার না করে বরং নিজেদের মতো করে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এ কারণেই তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সারজিস আলম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বিএনপি যদি মনে করে তারা বিরোধী দলের কবর খুঁড়বে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবে, তবে সেই কবরে তাদের জায়গাই সবার আগে হবে।”
মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো প্রলোভন বা রাজনৈতিক প্রভাবের বিনিময়ে যেন তারা বিভাজিত না হন। তাদের কোনো দলের ব্যানারে দেখা না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ পরিবার এবং যোদ্ধারা সবসময় দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার পক্ষেই অবস্থান করবেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি গণ-আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়া কিছু আসামি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক।


