পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ (Islamabad)-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ প্রত্যাশিত ফল না দিলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব থেকে সরে এসে ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান জানায়, তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মার্কিন সরকার যদি ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ খোলা রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং বিশেষভাবে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনা ও গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে এই সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি আসেনি।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন। এই ইস্যুগুলো ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনব্যাপী সংলাপ চলে তেহরান (Tehran) ও ওয়াশিংটন (Washington)-এর মধ্যে। কিন্তু সেই আলোচনাও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই সমাপ্ত হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময় ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করে। সংঘাতের প্রথম দিনেই নি’\হত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন।
টানা সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল, যুদ্ধের ৩৯তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে আবারও সংলাপে বসে দুই পক্ষ। যদিও এই দফায়ও দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি, তবুও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করছে না তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার মাঝেও উভয় পক্ষের এমন বক্তব্য ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খোলা রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা যেতে পারে—যেখানে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সংলাপের সম্ভাবনাও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে।


