ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর বেইজিংও পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়ার বার্তা দিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন (Guo Jiakun) এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে চীনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তাহলে চীন ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দিতে বাধ্য হবে। তার ভাষায়, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই আরও জটিল করে তুলবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন বরাবরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ধরনের রপ্তানি দেশটির নিজস্ব আইন এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আওতায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যেসব দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, তাদের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও প্রাথমিক ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে এই বার্তাটি মূলত চীন ও রাশিয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছিল।
রোববার ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে মারিয়া বার্টিরোমো (Maria Bartiromo)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে—চীন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কি না—জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, চীনও এর আওতায় পড়বে।
এই হুমকি ও পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সুর আরও জোরালো হয়ে উঠছে।


