বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাবেক অধিনায়কদের জন্য বিশেষ ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু করেছেন তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)। জানা গেছে, এই কার্ডধারীরা ভিআইপি গ্যালারিতে বসে বাংলাদেশের সব ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। তবে এই উদ্যোগ ঘিরেই এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য (Tapash Baisya)।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টিকে সরাসরি এই সময়ের বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, আগে থেকেই খেলা দেখার ক্ষেত্রে অধিনায়কদের জন্য আলাদা এসি বক্স থাকলেও অন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য ছিল সাধারণ গ্যালারি। আর এখন সেই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ‘কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে।
তাপস লিখেছেন, ‘এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি ছিল! আর এখন তো কার্ড! একদিন ভিডিও করে সকলকে বলবো এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী, আর অন্য সতীর্থরা?’
তিনি আরও বলেন, একটি দল গড়ে ওঠে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়—শুধু অধিনায়ক নয়। সাবেক এই পেসার উদাহরণ টানেন মোহাম্মদ রফিক (Mohammad Rafique)-এর। তার মতে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে রফিকের মতো ক্রিকেটারের তুলনায় অনেক অধিনায়কই পিছিয়ে। অথচ বাস্তবতা হলো—রফিকের মতো খেলোয়াড়দের সাধারণ গ্যালারিতে বসতে হবে, আর নতুন বা কম পরিচিত অধিনায়করা বসবেন এসি বক্সে।
পোস্টে তাপস বৈশ্য আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘খেলে তো সকলেই মিলে (১১ জন বা ১৪ জন), খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়াড়! রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড়, কয়জন অধিনায়ক আছেন? রফিক ভাই বসবে সাধারণ গ্যালারিতে আর আনকোরা অধিনায়ক এসি বক্সে।’
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, যাদের আত্মসম্মানবোধ আছে, তাদের এ নিয়ে কথা বলা উচিত। যদিও তিনি ইঙ্গিত দেন, যারা এই সুবিধা পাচ্ছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই নীরব থাকবেন। একই সঙ্গে অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন—অন্য সতীর্থদের জন্য এমন সুবিধা কেন থাকবে না?
সবশেষে নিজের হতাশার কথাও তুলে ধরেন সাবেক এই ক্রিকেটার। তিনি লিখেছেন, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য। আমি চাই আর যেনো কখনোই, কোনো সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়। সব দেখা হয়ে গেছে।’
