দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দুই দফা মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ আরও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হয়েছে।
দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বার্তায় এই নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এর আগে এই একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। তারও আগে গত মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজির দাম বেড়েছে মোট ৫৯৯ টাকা।
এই মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে, যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরোনো দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় উঠেছে। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দামের বৃদ্ধি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ ১৯ টাকা বেড়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবই এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি আমদানি চেইনেও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
যদিও ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ এবং মূল্য ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের এই নতুন দফা মূল্যবৃদ্ধি আবারও ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
