আবেগঘন বিদায়: মিরপুরে শেষবারের মতো স্মৃতিচারণায় রুবেল হোসেন

২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে জেমস অ্যান্ডারসন (James Anderson)-এর স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া সেই ইয়র্কার কিংবা ২০১৩ সালে মিরপুরে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট— এমন অনেক স্মরণীয় মুহূর্তেই জায়গা করে নিয়েছেন রুবেল হোসেন। সমর্থকদের মাঝে তার পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন উচ্ছ্বাস ছিল, তেমনি ছিল সমালোচনা ও ক্ষোভও। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে তার অবস্থান নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই।

বাংলাদেশের বর্তমান শক্তিশালী পেস আক্রমণের ভিত্তি গড়ে ওঠার সময়ের অন্যতম সেনানী ছিলেন তিনি। সেই যাত্রারই এক আবেগঘন সমাপ্তি হলো মিরপুরে।

দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) রুবেল হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়। তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু। পাশাপাশি বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটের জার্সিও তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুবেল কৃতজ্ঞতা জানান কোচ, সতীর্থ এবং মাঠের পেছনে কাজ করা গ্রাউন্ডসকর্মীদের প্রতি। তিনি বলেন, ‘গ্রাউন্ডসকর্মী থেকে শুরু করে সব কোচকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। যারা আমাকে অত্যধিক সমর্থন দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং আমার পাশে ছিলেন।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তার বার্তাও ছিল আবেগঘন। ‘ভক্তদের আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পাশে থাকবেন— এটাই আমার অনুরোধ,’ বলেন তিনি।

২০০৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২৭টি টেস্টে ৩৬ উইকেট, ১০৪টি ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট শিকার করেছেন রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২১ সালে। এরপর প্রায় পাঁচ বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দেন তিনি।

বিদায়ী সংবর্ধনার পর মিরপুরের উইকেটে গিয়ে চুমু খান রুবেল— যেন বিদায়ের আগে প্রিয় মাটির প্রতি শেষ ভালোবাসার প্রকাশ। নিজের এই আবেগের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি ১২-১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। এই মিরপুর স্টেডিয়ামের সঙ্গে আমার অনেক ভালো-মন্দ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই আবেগপ্রবণ হওয়াটা স্বাভাবিক।’