নামের সঙ্গে ভুয়া ‘ডক্টরেট’ ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল (Portugal)-এ এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব দক্ষিণ পাড়ায়। তার বিরুদ্ধে ডেনমার্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিধারী পরিচয় দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ফেব্রুয়ারিতে পর্তুগালের আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি দেশটির রাজধানী লিসবন (Lisbon)-এ বসবাস করেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপেও অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক নেতিবাচক পোস্ট দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ডেনমার্কে পাড়ি দেন রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি লিসবনে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার অফিস, ভিজিটিং কার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গাতেই নিজের নামের আগে ‘ডক্টর’ ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, ডেনমার্কের রসকিল বিশ্ববিদ্যালয় (Roskilde University) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই পরিচয়ের ভিত্তিতেই তিনি ‘ডক্টর রফিক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং সেই পরিচয় কাজে লাগিয়ে আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী একাধিক বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ তার সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হয়ে প্রতারিত হয়েছেন, আবার কেউ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাজের জন্য ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরির ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পিএইচডি ডিগ্রির দাবি দেখে তার ওপর আস্থা রাখলেও পরবর্তীতে লাখ লাখ ইউরো হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। তবে ইউরোপীয় আইনের জটিলতার কারণে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
রফিকুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে রসকিল বিশ্ববিদ্যালয় (Roskilde University) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ওই ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন—এমন কোনো তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ২০১৮ সালের জুন মাসে তিনি সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
মামলার বাদী রবিউল ইসলাম জানান, প্রথমে রফিকুল ইসলাম তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। তখন তার শিক্ষাগত পরিচয়ে তিনি আস্থা পান। পরবর্তীতে অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিয়ে ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাড়ি বিক্রির নামে ডাউন পেমেন্ট নেওয়ার পর এক মাসে গাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ সাত থেকে আট মাস সময়ক্ষেপণ করেন অভিযুক্ত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।


