মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)-তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান (Iran)-এর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি (Islamic Revolutionary Guard Corps) ভারতগামী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জব্দ হওয়া জাহাজ দুটি হলো ‘ইপামিনোন্ডাস’ (Epaminondas) এবং ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ (MSC Francesca)। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগামী স্পিডবোটগুলো তীব্র গতিতে জাহাজগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখোশধারী এবং ভারী অস্ত্রসজ্জিত নৌসেনারা জাহাজে উঠে পড়ে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং প্রশিক্ষিত অভিযানের ইঙ্গিত বহন করে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম নূর নিউজ (Noor News) জানিয়েছে, ‘ইপামিনোন্ডাস’ জাহাজটি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একই সময় ‘ইউফোরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজও এই অভিযানের আওতায় পড়ে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে সেটি থেমে যেতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’কেও নিশানা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে জাহাজ দুটি শনাক্ত করা হয় এবং পরে সেগুলোকে থামানো হয়। সংস্থাটির দাবি, ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন, যা নিরাপত্তা বিবেচনায় সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে ‘ইপামিনোন্ডাস’ জাহাজটি নেভিগেশন ব্যবস্থায় কারসাজি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্য করা বা নিরাপদ নৌচলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। এই সতর্কতা শুধু সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলে কার্যরত নৌযানগুলোর জন্যই একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ জব্দের এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।


