ভারতের চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে একেবারেই ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও এগিয়ে দেখানো হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party), আবার কোথাও স্পষ্ট লিডে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। ফলে চূড়ান্ত ফল নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি অনিশ্চয়তা।
চাণক্য স্ট্র্যাটেজির সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে, যেখানে তৃণমূলের আসন সংখ্যা হতে পারে ১৩০ থেকে ১৪০। তবে পিপল্স পাল্স-এর জরিপে একেবারে বিপরীত চিত্র—সেখানে তৃণমূলকে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে, আর বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন।
পি-মার্ক ও প্রজা পোলের মতো সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসে বিজেপির শক্ত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এসব জরিপে দলটি ১৫০ থেকে ২০০-এর বেশি আসন পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পোল ডায়েরি ও জেভিসির সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের, যেখানে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।
জনমত পোলসের জরিপে আবার তৃণমূলকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন দলটি ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেতে পারে, আর বিজেপি থামতে পারে ৮০ থেকে ৯০ আসনে।
যদিও ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, এসব বুথফেরত বা প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা সব সময় চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে মেলে না। অতীতেও বহুবার এমন পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ। সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়। এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গণনা। সেদিনই স্পষ্ট হবে—সমীক্ষার পূর্বাভাস কতটা বাস্তবতার সঙ্গে মিলেছে।
দক্ষিণেও ভিন্ন হিসাব
কেরালায় অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া (Axis My India)-এর জরিপে ইউডিএফ জোটকে এগিয়ে দেখানো হয়েছে। সেখানে তাদের সম্ভাব্য আসন ৭৮ থেকে ৯০টির মধ্যে ধরা হয়েছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan)-এর সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তামিলনাড়ুতেও সমীক্ষায় মিলছে না একক ছবি। কিছু জরিপে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও, অন্যগুলোতে এআইএডিএমকে-বিজেপি জোটের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। আবার কিছু সমীক্ষায় নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-র সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজ্যের প্রচলিত দ্বিমেরু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
পুদুচেরিতে এনডিএ এগিয়ে
৩০ আসনের পুদুচেরি বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬টি আসন। বেশির ভাগ সমীক্ষায় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (National Democratic Alliance)-কে এগিয়ে রাখা হয়েছে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এনডিএ ১৬ থেকে ২০টি আসন পেতে পারে।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী (N Rangaswamy)-এর নেতৃত্বাধীন জোট আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা
সব মিলিয়ে বিভিন্ন সমীক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে তীব্র আকার ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট। এখন সবার দৃষ্টি ৪ মে’র গণনার দিকে—সেদিনই নির্ধারিত হবে, পূর্বাভাস কতটা বাস্তবের কাছাকাছি ছিল।
এদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি (Gulf Cooperation Council)-এর মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের প্রস্তাবকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জিসিসি দেশগুলো এ ধরনের অর্থ পরিশোধ করবে না।
প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এখানকার যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, হজ মৌসুম ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি আরব। বিভিন্ন অভিযানে অনুমতিহীনভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। এমনকি একটি ঘটনায় মালবাহী ট্রাকের ভেতরে গোপনে যাত্রী পাচারের চেষ্টাও ধরা পড়ে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে। আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভিজিট ভিসাধারী বা অনুমতিহীন কেউ মক্কায় অবস্থান করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে।


