‘জলাবদ্ধতা নয়, সাময়িক জলজট’—চট্টগ্রাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সরকারিভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-এর নির্দেশেই চট্টগ্রামে এসেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর ছিল—চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যে পুরো মহানগর পানিতে ভাসছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। পরে সংসদেই তাকে ডেকে দ্রুত চট্টগ্রামে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সমস্যার সমাধানে কাজ করার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় পানি জমে থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। “৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে এত বড় শহরে পানি সরতে কিছুটা সময় লাগবেই। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলব না, এটাকে জলজট বলব,”—ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর মতে, জলাবদ্ধতা তখনই বলা হবে, যখন তিন-চার দিন ধরে পানি নামবে না।

প্রবর্তকের মোড়সহ কয়েকটি স্থানে অল্প সময়ের জন্য পানি জমে থাকলেও তা দ্রুত নিষ্কাশন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ছয়টিতে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি আটকে ছিল। তবে সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ করে রিটেইনিং ওয়ালের কারণে সৃষ্ট বাধা সরিয়ে পানি নামিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দিনরাত কাজ চলছে। বর্ষাকালের আগে চলমান উন্নয়নকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যারিকেড ও রিটেইনিং ওয়াল অপসারণ করা হবে। বর্ষা শেষে আবার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত ছিলেন। “আমরা পাম্প নিয়ে ঘুরেছি, কিন্তু কোথাও ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি”—বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে এসেছে।

তিনি আশ্বাস দেন, চলমান প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বড় অংশ সমাধান হয়ে যাবে। বাকি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সমস্যার সমাধানের জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটগুলো পরিষ্কার রাখা হয়েছে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত খালের মুখ ড্রেজিং করে কর্ণফুলী নদীতে সংযোগ সচল রাখছে। সব মিলিয়ে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা না থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি, তবে অতিভারী বৃষ্টিতে সাময়িক জলজট হতে পারে বলেও সতর্ক করেন।