ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েনের চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র, নতুন সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। বিশেষ করে ব্লুমবার্গ (Bloomberg)-সহ একাধিক সূত্রে বলা হচ্ছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (United States Central Command)—সংক্ষেপে সেন্টকম—‘ডার্ক ঈগল’ নামের একটি গোপন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম।

যদি এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তবে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের বাস্তব মোতায়েন। যদিও রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডার্ক ঈগল’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাধীন অবস্থায় ছিল এবং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন আরও জানায়, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো এমন দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অস্ত্র দিয়ে কার্যকর হামলা চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নতুন কৌশল হিসেবে এই উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

জানা গেছে, ‘ডার্ক ঈগল’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২,৭৭৬ কিলোমিটারেরও বেশি, যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এটি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও বাস্তব যু’\দ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখনো দেখা যায়নি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-কে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য এই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু সক্ষমতা এখনো সক্রিয় রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইতোমধ্যেই আকাশে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

চলমান যু’\দ্ধপরিস্থিতিতে দুই দেশই নৌপথে পাল্টাপাল্টি চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং অস্ত্রের মজুতে চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন বলছে, চলমান অচলাবস্থার কারণে শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে, ফলে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।