ইলেকট্রিক-হাইব্রিড গাড়িতে বড় ঋণ সুবিধা, সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এখন থেকে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ঋণসীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতেই এই নতুন সুবিধা চালু করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন একজন গ্রাহক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও দ্বিগুণ বৃদ্ধি আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে জ্বালানিসংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বিকল্প শক্তিচালিত যানবাহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশবান্ধব দিক বিবেচনায় এগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রমাগত। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নিতে পারবেন। তবে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে, যা এই খাতে বড় ধরনের প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঋণ ও নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে যেখানে সর্বোচ্চ ৬০:৪০ অনুপাতে ঋণ দেওয়া যাবে, সেখানে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে এই অনুপাত বাড়িয়ে ৮০:২০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কম নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেই এখন পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনা সম্ভব হবে।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির মোট ঋণ ‘এক্সপোজার’ নির্ধারণের সময় তার নির্ভরশীল সদস্যদের নেওয়া অটো লোনও বিবেচনায় আনা হবে। ফলে ঋণগ্রহীতার সামগ্রিক আর্থিক দায়-দায়িত্ব মূল্যায়ন আরও কঠোরভাবে করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।