অবৈধভাবে মানবপাচার এবং প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য এমন ব্যবস্থা নিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ‘বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫’-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণামূলক উপায়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভয়াবহ শোষণের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড (Dream Home Travels and Tours Limited) রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করত। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে দাঁড়াত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)-এর সম্মুখ সমরে পাঠানো হতো। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে—এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও আগে থেকেই আলোচিত ছিল। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা সেই অভিযোগের সত্যতাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।
নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা সব ধরনের সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মানবপাচার এবং অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান রয়েছে। এই দীর্ঘ সংঘাতকে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে একাধিকবার উঠে এসেছে। সর্বশেষ এই ঘটনা সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।


