স্বর্ণকে টেক্কা দিচ্ছে রুপা, বিনিয়োগকারীদের নতুন ভরসা এখন এই ধাতু

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর রাজত্ব ছিল স্বর্ণের দখলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন দ্রুত ঘুরছে রুপার দিকে। গত এক বছরে স্বর্ণের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মুনাফা দিয়ে বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ধাতু।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছর রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রুপার খনি সংশ্লিষ্ট ইটিএফগুলো প্রায় ২৭৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দিয়েছে। বিপরীতে স্বর্ণ খাতের মুনাফা ছিল প্রায় ২০৮ শতাংশ।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স রুপার দাম ৭৮ ডলারের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পকারখানায় রুপার চাহিদা বাড়তে থাকা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে শুধু স্বর্ণ নয়, রুপাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অনেকের ধারণা, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে রুপা স্বর্ণের তুলনায় আরও বেশি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ মাধ্যম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে রুপার ব্যবহার বাড়ায় এর ভবিষ্যৎ চাহিদাও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে রুপার উত্থানের মধ্যেও স্বর্ণের বাজার থেমে নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। জেপি মর্গান (JP Morgan)-সহ বড় বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দেশীয় বাজারেও বেড়েছে দুই ধাতুর দাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (Bangladesh Jewellers Association-Bajus) নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে।

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০৩ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা কিনতে এখন খরচ হবে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত দুই দফায় রুপার দাম ভরিপ্রতি মোট ২৯২ টাকা বেড়েছে। এতে দেশের বাজারেও রুপা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Federal Reserve) সুদের হার কমাতে পারে—এমন সম্ভাবনা এবং ডলারের মান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কায় মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে রুপার বাজার এখনো স্বর্ণের তুলনায় আপেক্ষিক শক্তিতে এগিয়ে থাকায় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতেও রুপা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এখন থেকেই রুপায় বিনিয়োগ করা হতে পারে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।