২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের রক্তক্ষয়ী আকাশযুদ্ধে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছে চীন। দীর্ঘ এক বছর পর বেইজিং স্বীকার করেছে, ওই সংঘাতের সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে তারা সরাসরি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ‘অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না’র প্রকৌশলী ঝাং হেং। তিনি জানান, যুদ্ধ চলাকালে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তানে অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকেই তারা সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়।
ঝাং হেং বলেন, মে মাসের তীব্র গরম এবং যুদ্ধকালীন চাপের মধ্যেও তাদের দল পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতিটি ছিল মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু তারা যুদ্ধকালীন প্রয়োজন মেটাতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করেছেন।
২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’-এর সময় এই বহুল আলোচিত আকাশযুদ্ধ সংঘটিত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল, পাকিস্তান ওই সংঘাতে কৌশলগতভাবে চীনের তৈরি জে-১০সি (J-10C) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল।
পাকিস্তানের যুদ্ধকৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। পাকিস্তানি জে-১০সি যুদ্ধবিমানগুলো নিজেদের রাডার বন্ধ রেখেই ভারতের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে সময়মতো শনাক্ত করতে পারেনি।
তবে নিজেদের রাডার বন্ধ থাকলেও পাকিস্তানি পাইলটরা দূরে অবস্থান করা নজরদারি বিমান বা AWACS-এর মাধ্যমে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাচ্ছিলেন। এই তথ্য ব্যবহার করেই তারা অতর্কিত হামলা চালায়।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ভারতের তিনটি রাফাল ছাড়াও একটি এসইউ-৩০ এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবির পূর্ণ সত্যতা স্বীকার করেনি, তবু যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধের আগে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কখনো ভূপাতিত হয়নি। একইসঙ্গে চীনের তৈরি কোনো যুদ্ধবিমানের হাতে শত্রুপক্ষের আধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনাও এটিই প্রথম বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি চীনের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-চীন-পাকিস্তান ত্রিমুখী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই তথ্য ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।


