ঘু’\ষ-তদবির নয়, মেধাতেই পুলিশের চাকরি— ঝিনাইদহে আবেগঘন মুহূর্তে ৩৩ তরুণ-তরুণীর স্বপ্নপূরণ

একটা সময় পুলিশের চাকরি মানেই ছিল ঘু’\ষ, দালাল আর তদবিরের গল্প। কিন্তু সেই দীর্ঘদিনের ধারণায় এবার যেন নতুন বাস্তবতার ছাপ পড়ল ঝিনাইদহ (Jhenaidah)-এ। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে এবার শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন ৩৩ জন তরুণ-তরুণী। আর সেই সুসংবাদ পাওয়ার পর জেলা পুলিশ লাইন্সে তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা রিফাত হাসান (Rifat Hasan) চাকরির খবর পেয়েই ফোন করেন তার মাকে। ফোনের ওপাশে থাকা মা রওশন আরা ছেলের কণ্ঠ শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। রিফাতের বাবা একজন ট্রাকচালক, আর মা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের সেই পরিবারে পুলিশের চাকরি পাওয়ার খবর যেন বহুদিনের কষ্ট আর সংগ্রামের এক বড় স্বীকৃতি হয়ে আসে।

শুধু রিফাত নন, চাকরি পাওয়া আরেফিন হাসান আবীর, রিপা খাতুনসহ আরও অনেকের চোখে ছিল আনন্দ আর স্বস্তির অশ্রু। কেউ বাবাকে জড়িয়ে ধরেছেন, কেউ আবার সহপাঠীদের সঙ্গে উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি করেছেন। তাদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। কারও বাবা কৃষক, কারও দিনমজুর, কেউ আবার ট্রাকচালকের সন্তান। কয়েকজন পিতৃহীন অবস্থায় সংগ্রাম করেও পৌঁছেছেন এই সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল অন্যরকম আবেগ। সন্তানদের বিনা টাকায় পুলিশের চাকরি পাওয়ার বাস্তবতা অনেকের কাছেই ছিল অবিশ্বাস্য। আনন্দে কেঁদে ফেলতে দেখা যায় কয়েকজন অভিভাবককে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ঝিনাইদহে শূন্যপদ ছিল ৩৩টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেন ২ হাজার ৮৭ জন প্রার্থী। শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন ২৬৮ জন। পরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৫৪ জন। তাদের মধ্য থেকে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৩ জনকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৫ জনকে।

মাহফুজ আফজাল (Mahfuz Afzal), ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, বলেন— পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে। কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়মের সুযোগ রাখা হয়নি।