মুখ্যমন্ত্রী হয়েই জনবান্ধব সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করলেন থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ু (Tamil Nadu)-র মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জনবান্ধব বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি রাজ্যজুড়ে থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay) নামেই বেশি পরিচিত।

রোববার শপথগ্রহণ শেষে তার প্রথম নির্দেশনাতেই ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মা’\দক নির্মূলে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন চালুর সিদ্ধান্তও জানানো হয়। ক্ষমতায় বসেই এমন কয়েকটি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজয় যেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রথম ইঙ্গিত দিলেন।

নিজের আবেগঘন বক্তৃতায় সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি কথা শুরু করেন তার চিরচেনা সেই বাক্য দিয়ে—‘ইন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’, অর্থাৎ যারা আমার হৃদয়ে বাস করেন। এই বাক্যটি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক ভাষণের ভেতরেও তার দীর্ঘদিনের ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আবেগের পুরোনো বন্ধনটিকেই সামনে আনেন।

বিজয় জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে তার সরকার পূর্ণ মনোযোগ দেবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এসব খাতে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে।

তার ভাষায়, ‘কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে।’

নিজের অতীতের কথা স্মরণ করে বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। তিনি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চেনেন, কোনো রাজপরিবার থেকে আসেননি। জীবনের পথে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, অনেকেই তাকে অপমান করেছেন। কিন্তু মানুষের ভালোবাসাই তাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিজয় বলেন, ‘আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। আপনারা আমাকে হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন।’

রাজ্যের বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও শপথের পর কথা বলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডিএমকে আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজ্য প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপির ঋণের বোঝা পেয়েছে, যা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসাব করা হয়েছে।

তবে কঠিন আর্থিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি জনগণের অর্থ ব্যবহারে সতর্কতার প্রতিশ্রুতি দেন। বিজয় বলেন, জনগণের তহবিল থেকে একটি পয়সাও নষ্ট করা হবে না এবং কাউকে রাজ্য লু’\ট করতে দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ’ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় তার রাজনৈতিক মিত্রদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি কংগ্রেস (Congress) নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রবীণ চক্রবর্তী এবং বামপন্থি নেতাদের পাশাপাশি জোটের সব সহযোগীকে ধন্যবাদ জানান।

গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৮টি আসন পায়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের কোটা তারা এককভাবে পূরণ করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের পর রাজ্যে এক সপ্তাহব্যাপী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ৫, সিপিআইয়ের ২, সিপিআইএমের ২, ভিসিকের ২ এবং আইইউএমএলের ২ বিধায়কের সমর্থনে বিজয়ের জোট ১২০ আসনে পৌঁছায়। এই সমর্থনের ভিত্তিতেই সরকার গঠনের পথ খুলে যায়।

তবে রাজনৈতিক পরীক্ষা এখানেই শেষ নয়। আগামী ১৩ মের মধ্যে বিধানসভায় বিজয় সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ, অর্থাৎ ফ্লোর টেস্ট দিতে হবে। সেই পরীক্ষাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্রথম বড় সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: এনডিটিভি (NDTV)