থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ কোটি টাকা আত্ম’\সাৎে’\র অভিযোগে একটি প্রতা’\রক চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এ ঘটনায় ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিএমডি এবং অভিনেতা হায়দার কবির মিথুন (Hayder Kabir Mithun)-কে গ্রে’\ফতা’\র করেছে সিআইডি (Criminal Investigation Department-CID)।
রোববার (১০ মে) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport) থেকে হায়দার কবির মিথুনকে গ্রে’\ফতা’\র করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানায় করা প্রতা’\রণা ও আত্ম’\সাৎে’\র একটি মামলায় তাকে গ্রে’\ফতা’\র দেখানো হয়েছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মিথুন রাজধানীর দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড (Holistic Home Builders Limited)-এর ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি একজন টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর জি+নয়তলা ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। এই প্রলোভনে পড়ে মামলার বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা সেক্টর-৪-এর অফিসে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। একই সঙ্গে তার এক বন্ধু ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অর্থ গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের মানি রিসিপ্ট ও চেক দিলেও প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।
পরে গ্রাহকেরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল এবং বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্ম’\সাৎ করা হয়েছে। গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভয়’\ভীতি ও হু’\মকি দিয়ে তাঁদের অফিস থেকে বের করে দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি মো. শিশির আহমেদ (Md. Shishir Ahmed) আত্মগোপনে যান এবং পরে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। নতুন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া আর্থিক লেনদেনের দায় তারা নেবে না। এই অবস্থানও গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
সিআইডি জানায়, তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে প্রতা’\রণা’\মূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার পর তিনি আত্মগোপনে যান এবং নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে চলে যান। পরে দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রে’\ফতা’\র করা হয়।
তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে আরও একাধিক প্রতা’\রণা’\র মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলা এবং উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার কয়েকটি সিআর মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রে’\ফতা’\রি পরোয়ানা রয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, গ্রে’\ফতা’\র হায়দার কবির মিথুনকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে প্রতা’\রক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রে’\ফতা’\রে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
