‘কৌশলগত ধৈর্য’ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত ইরানের, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

সাম্প্রতিক হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান (Iran) তাদের দীর্ঘদিনের “কৌশলগত ধৈর্যের” নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকা এবং তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে তেহরান।

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ভূখণ্ড, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা তেল ট্যাঙ্কারসহ দেশটির স্বার্থে হামলার পরিকল্পনা করা হলে সংশ্লিষ্টদের জন্য “কঠোর পরিণতি” অপেক্ষা করছে। যদিও তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবু বক্তব্যকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা “নতুন অস্ত্র, নতুন যুদ্ধ কৌশল এবং নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের বিস্ময়” দেখতে পাবে। তার দাবি, সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্র (United States)-কে সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল জটিল হয়ে উঠতে পারে। এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অতীতেও একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই পুরোনো আশঙ্কাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই অবস্থান কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিও একটি রাজনৈতিক সংকেত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ভাষা আরও কঠোর হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ।

সূত্র: আল-জাজিরা (Al Jazeera)