ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত হ’\ত্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী (Nasiruddin Patwari)। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
পাটোয়ারী লেখেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত (India-Bangladesh Border)-এ নতুন করে কাঁটাতারের জন্য জমি বরাদ্দ এবং বিভেদের দেয়াল নির্মাণের সাম্প্রতিক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সীমান্তকে কেবল মানচিত্রের একটি রেখা হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি মানুষের জীবন, মানবাধিকার এবং পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি বাস্তবতা। বছরের পর বছর ধরে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিক হ’\ত্যার ঘটনাকে তিনি মানবিক বিবেকের প্রশ্ন হিসেবে সামনে আনেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও লেখেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সভ্য বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ভয়, গু’\লি ও বিভেদের দেয়াল দিয়ে নয়; পারস্পরিক সম্মান, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল কূটনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানবিক সংযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পাটোয়ারী বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ কাম্য নয়, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি করে। তার বক্তব্যে সীমান্ত নীতির মানবিক দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ সরকার (Bangladesh Government)-এর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে পাটোয়ারী বলেন, সীমান্ত হ’\ত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি শক্তভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে পাটোয়ারী দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মানবিক বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “আজ দক্ষিণ এশিয়া (South Asia)-র প্রয়োজন সংঘাত নয়, সংহতি; দেয়াল নয়, সহযোগিতা; ভয় নয়, আস্থা।”
তার ভাষায়, মানবাধিকার, জনগণের মর্যাদা, ন্যায়ভিত্তিক কূটনীতি এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে উঠতে পারে। সীমান্তের কাঁটাতার ও হ’\ত্যা প্রসঙ্গে দেওয়া এই স্ট্যাটাসে তাই শুধু প্রতিবাদ নয়, আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
