ভিসা আবেদনে ব্যাংক নথি যাচাই সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ বিভিন্ন আর্থিক নথির সত্যতা দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)। মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ নানা ধরনের আর্থিক নথি জমা দিতে হয়। কিন্তু এসব নথি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলো অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতার মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই আর্থিক নথির সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কিনছে সরকার। এই তেল সরবরাহ করবে সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড (Seeds Crushing Mills Limited) ও শবনম ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড (Shabnam Vegetable Oil Industries Limited)।

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)-এর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তেল ও ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এসব তেল কেনা হচ্ছে।

অন্যদিকে আর্থিক খাতসহ দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। বরং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদার কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (Bangladesh Startup Investment Company – BSIC)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান ও গতিশীল করার একটি প্ল্যাটফর্ম।’ তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারিত হবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রধান দুটি সংকট—অর্থায়নের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা—উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ ও শহুরে তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’-এর পথে এগোচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীরাও সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্যও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের একাধিক ব্যাংকের যৌথ অংশগ্রহণে গঠিত এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।