জ্যোতিষীকে সরকারি পদে বসিয়ে বিতর্কে বিজয়, সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যুতেও উত্তাপ

গত ৪ মে ভোট গণনার সময় টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে গেলে বিজয়ের বাড়িতে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন রাধান পণ্ডিত। ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সেই সম্পর্ক এবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠতা জোটসঙ্গী কিংবা বিরোধী ডিএমকে (DMK)-এর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ, ডিএমকে দীর্ঘদিন ধরেই কুসংস্কার ও জ্যোতিষবিদ্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। ফলে একজন জ্যোতিষীকে সরকারি দায়িত্বে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

কংগ্রেস এমপি সাসিকান্ত সেন্থিল এক্সে, সাবেক টুইটারে লিখেছেন, একজন জ্যোতিষীর জন্য ওএসডি পদ কেন প্রয়োজন, সেটি তার বোধগম্য নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেউ কি এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন?

ভিডিসিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ডি রাভিকুমার (D Ravikumar) লিখেছেন, ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক শাখার সচিব হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি মূলত একজন জ্যোতিষী।

ভিডিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংবিধানবিরোধী ও অবৈজ্ঞানিক এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। দলটির বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে দেখছে না; বরং একে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছে।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শানমুগম পি বলেন, সরকারি খরচে এমন একজনকে দায়িত্ব দিলে মানুষের মধ্যে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি বিশ্বাস আরও বাড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবেও তাকে রাখা ঠিক হয়নি।

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষী ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। রাধান পণ্ডিতের ক্লায়েন্ট তালিকায় তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও এআইএডিএমকের নেতা জে জয়ললিতাও ছিলেন।

জানা যায়, তার শাসনামলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়েই নেওয়া হতো। তবে পরে দুজনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। কারণ, সম্পদের অসামঞ্জস্য মামলায় জয়ললিতা কা’\রাগা’\রে যাবেন না—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন রাধান পণ্ডিত, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে (TVK) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম ও ভিডিসির সমর্থনে সরকার গঠন করেন বিজয়।

অভিবাসন ইস্যুতেও আলোচনা

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ঢাকা অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বলে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ভারত। এসব ব্যক্তির নাম নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই ঢাকার কাছে পাঠিয়েছে।

ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত আঞ্চলিক সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির চর্চাকারী হিসেবে ভারত চারপাশের সব উন্নয়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিজস্ব ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ভারতের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তও তারা সেই দৃষ্টিতেই দেখছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গত সোমবার (১১ মে) সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেবে তার সরকার।

এ নিয়ে এদিন এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে এখন আর ভয় দেখানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতার ভয় পায় না।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে গুরুত্বহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এলেই সরকার কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে।

ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব নিয়ে গালিবাফের হুঁশিয়ারি

চলমান সং’\ঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই প্রস্তাব মেনে নিতে যত দেরি হবে, তত বেশি খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশি’\য়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (Mohammad Bagher Ghalibaf)।

এক প্রতিবেদনে গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে, সাবেক টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে দেশটির জনগণের যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।