যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin)-এর হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তার এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং আক্রান্ত ধমনীতে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে বঙ্গভবনের প্রেস উইং। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বঙ্গভবনের প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল ডা. এ কে এম ফয়জুল হকের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল (Royal Papworth Hospital)-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি (Dr. Stephen Holy)-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সফলভাবে স্টেন্ট বসানো হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল (National University Hospital)-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ফলো-আপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য সুপরিচিত এই হাসপাতালটি বিশ্বের প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবেও পরিচিত। হৃদরোগ চিকিৎসায় এর বিশেষায়িত সেবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত।
রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে লন্ডন (London)-এর পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
