জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধ’\র্ষ’\ণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু পেঁচিয়ে তাকে টেনে পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, তারা কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ এক নারীর চিৎকার শুনতে পান। পরে পাশের জঙ্গল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় এক শিক্ষার্থী বের হয়ে আসেন।
তিনি বলেন, “তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও ধুলা লেগে ছিল। আমরা জানতে চাইলে তিনি জানান, কেউ তাকে ধ’\র্ষ’\ণ করার চেষ্টা করেছে। এরপর আমরা সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে অভিযুক্তকে খুঁজতে চেষ্টা করি। কিন্তু অন্ধকারের কারণে তাকে পাওয়া যায়নি।”
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় খবর দেওয়া হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাকসুর নেতাসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালান এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। তবে তার পূর্ণ পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


