নাকবা দিবস বা ফিলিস্তিনিদের ‘বিপর্যয় দিবস’ উপলক্ষে একটি ভিডিও ও বিবৃতি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। নিউইয়র্ক সিটি (New York City)-এর এই মেয়র প্রকাশিত ভিডিওতে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, নাকবার ইতিহাস এবং ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময়কার ঘটনাগুলো তুলে ধরেন।
ভিডিওটিতে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ইনিয়া বুশনাকের একটি সাক্ষাৎকার দেখানো হয়েছে, যিনি নিজেকে নাকবা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জেরুজালেমে জায়নবাদীরা আসছিল’—এমন আতঙ্কে তারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ভিডিওতে বলা হয়, নাকবা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘বিপর্যয়’। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে ইসরাইল (Israel) রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে সাত লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে বহিষ্কার ও বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে এই শব্দ দিয়ে বোঝানো হয়।
ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়, হাগানাহ, ইরগুন ও লেহির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ৪০০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহর ধ্বংস করেছে এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হ’\ত্যা করেছে। প্রতি বছর ১৫ মে নাকবা দিবস হিসেবে স্মরণ করা হয় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের জন্য এই বাস্তুচ্যুতি ও বিপর্যয়ের প্রভাব আজও অব্যাহত রয়েছে।
এই ভিডিও এবং নাকবা সম্পর্কিত বক্তব্যকে অনেকেই ফিলিস্তিনিদের তথাকথিত ‘প্রত্যাবর্তনের অধিকার’-এর প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন (Palestine) ও ইসরাইল ইস্যুতে অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ম্যানহাটনে কট্টরপন্থি জায়নবাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নাকবা দিবসের সমাবেশ চলাকালেই ভিডিওটি প্রকাশ করেন মামদানি। এছাড়া চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইহুদি সম্প্রদায়ের বার্ষিক কুচকাওয়াজ ‘ইসরাইল ডে অন ফিফথ’-এ অংশ নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র হিসেবে দ্য টাইমস অব ইসরাইল (The Times of Israel)-এর প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে।


