জু’\লাই গ’\ণঅ’\ভ্যু’\ত্থান চলাকালে দেশজুড়ে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সেবা ব’\ন্ধ রাখার পেছনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত একটি ফোনালাপে উঠে এসেছে, ইন্টারনেট পুনরায় চালু না করার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান (Salman F Rahman) সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছিলেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক (Junaid Ahmed Palak)-কে।
গত ১৮ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-এ মানবতাবিরোধী অ’\পরা’\ধের এক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে এই অডিও রেকর্ড শোনানো হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার (Md Golam Mortuza Majumdar)-এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন এটি উপস্থাপন করে। মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (Anisul Huq)।
এক মিনিট ৯ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে ইন্টারনেট সেবা ব’\ন্ধ রাখা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং সরকারের ভাষ্য কীভাবে বদলানো হবে—তা নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় সালমান এফ রহমান ও পলককে।
ফোনালাপের শুরুতেই সালমান এফ রহমান পলককে বলেন, “তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর করবা না এখন।” জবাবে পলক বলেন, “না।” এরপর সালমান আবারও জোর দিয়ে বলেন, “কোনোভাবেই না।” পলক তখনও সম্মতি জানান।
আলাপের একপর্যায়ে ছাত্রদের অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। পলক বলেন, ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয় এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া প্রয়োজন। জবাবে সালমান বলেন, “দিয়েছে, আরাফাত দিয়েছে… তো।”
এরপর আরও তাৎপর্যপূর্ণ অংশ আসে কথোপকথনে। সালমান এফ রহমান বলেন, টিভি চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আন্দোলনকারীদের আর “আন্দোলনকারী” বলা না হয়। তার ভাষায়, “এদেরকে এখন দুর্বৃত্ত বলতে হবে। কারণ, ছাত্ররা ওদের সঙ্গে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সো স্টেপ চেঞ্জ, নো মোর আন্দোলনকারী। আমি একটা বিবৃতি দিয়েছি, লাইন পড়তে পারেন। রেকর্ড করে টিভিতে পৌঁছালে করবে আরকি।”
এই ফোনালাপকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন। জু’\লাই গ’\ণঅ’\ভ্যু’\ত্থানের সময় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার প্রশ্নে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়েছে।


