মসজিদে হামলার সময় লকডাউন চালু করে প্রাণ বাঁচালেন আমিন আবদুল্লাহ, পরে নি’\হত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো (San Diego)-এর একটি মসজিদে সশস্ত্র হামলায় নি’\হত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের দাবি, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত বিবিসি (BBC)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নি’\হত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহ’\ত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথ অতিক্রম করার সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের দিকে গু’\লি চালান। পরে পাল্টা গু’\লিতে তিনি নি’\হত হন। তবে মৃ’\ত্যুর আগেই তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হন। এর ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল (Scott Wahl) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।”

নি’\হত অপর দুই মুসল্লির নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (Council on American-Islamic Relations-CAIR)-এর সান ডিয়েগো শাখা। তারা দুজনই নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাকে সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।

কেইর-এসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, “তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদেরও খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।”

এ ঘটনায় পুলিশ এটিকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আ’\গ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। এছাড়া ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া (Todd Gloria) বলেন, “এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নি’\হত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।”

এদিকে নি’\হতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।