যাত্রা শুরুর মাত্র দুইদিনের মধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অঙ্গনে আলোড়ন তৈরি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সদ্য চালু হওয়া এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্বাভাবিক গতিতে জনপ্রিয়তা পেয়ে অনেককেই বিস্মিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত দেখা যায়, মাত্র ৫২টি পোস্ট নিয়ে প্ল্যাটফর্মটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৮.৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে।
ঘটনার সূত্রপাত মাত্র দুইদিন আগে। সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে তরুণদের সচেতনতামূলক প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant) এক মন্তব্য করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
শুনানিকালে তিনি মন্তব্য করেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিছু ‘পরজীবী’ কাজ করছে। একইসঙ্গে তিনি বেকার তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে এমন একটি তুলনা করেন, যা মুহূর্তেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।
তার ভাষায়, ‘তেলাপোকার মতো এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা কোনো চাকরি পায় না কিংবা কোনো পেশায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে না। তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় নেয়, কেউ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী হয়, আবার কেউ তথ্য অধিকার কর্মী বা অন্য ধরনের অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে থাকে।’
এই মন্তব্যের পরেই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতির গতি। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত (India)-এর অনলাইন জগতে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। সমালোচনা, ব্যঙ্গ আর প্রতিবাদের মিশেলে বিষয়টি দ্রুত নতুন রূপ নিতে শুরু করে।
এরপর অভিজিৎ দিপকে (Abhijit Dipke) নামের ৩০ বছর বয়সী এক তরুণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party)’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-এর নামের ধাঁচ অনুসরণ করে তিনি এই নাম নির্বাচন করেন। শুধু নামেই থেমে থাকেননি; একই পরিচয়ে একটি ওয়েবসাইট, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স অ্যাকাউন্টও চালু করেন।
দুইদিনের ব্যবধানে সেটি এখন আর কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং সামাজিক মাধ্যমে তা রীতিমতো তরুণদের এক ডিজিটাল সমাবেশে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ সেখানে যুক্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি দেশটির জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতারাও এই প্রবণতায় অংশ নিতে শুরু করেছেন।


