রামিসার মৃ’\ত্যুতে কাঁদছে দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছেন তারকারা—‘আর কোনো শিশুর জীবন এভাবে ঝরে পড়ুক চাই না’

রাজধানীর পল্লবী (Pallabi)-তে ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধ’\র্ষণের পর নৃশংসভাবে হ’\ত্যার ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি করে বেড়ানোর কথা, সেই শিশুটিই এখন এক নির্মম বিভীষিকার নাম। এই জঘন্য ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। রাজপথ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন একটাই দাবি, ধ’\র্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে ১১৮ শিশু ধ’\র্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধ’\র্ষণের পর হ’\ত্যা করা হয়েছে ১৪ শিশুকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এমন ঘটনার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামিসার মর্মান্তিক মৃ’\ত্যুর পর বিচারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারকারা।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান (Shakib Khan) বলেন, “একটি শিশুর আর্তনাদ কখনোই শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়, এই বেদনা আমাদের সবার। এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব মানে ভুক্তভোগী পরিবারের যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ করা। এখন সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার, যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে নির্মমতার শিকার হতে না হয়।”

অভিনেত্রী তমা মির্জা (Toma Mirza) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধ’\র্ষকের বিচার হবে ভুক্তভোগীর জানাজার আগেই। এমন বিচার হতে হবে যাতে এসব অসুস্থ মানসিকতার অপরাধীরা অপরাধ করার চিন্তাও স্বপ্নে না দেখে। কিসের তদন্ত, কিসের ব্যাখ্যা—ধ’\র্ষকের আবার কিসের উকিল!”

একই সুরে অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লাহ বলেন, “অন্তত একজনকে জনসম্মুখে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দেখিয়ে দিন যে এই দেশে আইন আছে।” ছোট পর্দার অভিনেতা এরফান সাজ্জাদ প্রশ্ন তোলেন, “শুধু গ্রেফতার করে সান্ত্বনা দিবেন, আর বিচারের কোনো নাম নাই—এই সার্কাস আর কতদিন?” অভিনেতা রওনক হাসান প্রকাশ্যে মৃ’\ত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।

অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক তিন দিনের মধ্যে ধ’\র্ষকের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, “ধ’\র্ষণের বিচারের আইন পরিবর্তন না করলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেবে। ধ’\র্ষকের ফাঁসি হতে হবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জনসম্মুখে।” অভিনেতা মিশু সাব্বিরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো কিছুর মব জাস্টিস গ্রহণযোগ্য নয়, তবে ধ’\র্ষকের ক্ষেত্রে মব জাস্টিস অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ বাংলাদেশে এর কোনো জাস্টিস নাই।”

রামিসার ঘটনা নিজের শৈশবের তিক্ত স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে অভিনেত্রী প্রিয়ন্তি উর্বীকেও। তিনি বলেন, “যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউজ বা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। ছোটবেলায় আমিও অশালীন স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, রেপিস্ট ও অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ তারা শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস ও শৈশবকে মেরে ফেলে।”

মা হিসেবে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন অনেক তারকা। নায়িকা শবনম বুবলী বলেন, “প্রতিনিয়ত এসব দেখে ট্রমাটাইজড লাগে। সোশ্যাল মিডিয়া আনসোশ্যাল লাগে, দেখতেই ইচ্ছা করে না। এক কাঁদে সন্তান হারিয়ে, আরেক কাঁদে বিচারের আশায়।”

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস লেখেন, “রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।” নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী শোকাহত হয়ে লেখেন, “রামিসা মা, আমাদের ক্ষমা করে দিও। ছোটবেলায় মা শিখিয়েছিলেন অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা না বলতে, দরজা না খুলতে—আজ বুঝি কেন।”

অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সভ্য সমাজ বলতে কি আর কিছু আছে? কোথায় এর শেষ হবে? এত অসহায় লাগে।” অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা বলেন, “আমিও রামিসার মা। আমারও দুটি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাই।”

আজ রামিসা শুধু একটি নাম নয়। রামিসা এ দেশের প্রতিটি বাবা-মায়ের সন্তান, প্রতিটি শিশুর মুখ, প্রতিটি আতঙ্কিত পরিবারের কান্না। এখন সবাই একটাই প্রত্যাশায় দিন গুনছে—যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।