ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতিতে তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র (United States) ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। গোলাবারুদের মজুত নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও (Hung Cao) সিনেটের এক অধিবেশনে আইনপ্রণেতাদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা সাময়িক বিরতি দিচ্ছি, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ আমাদের হাতে রয়েছে এবং মজুত যথেষ্ট আছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশাসন চাইলে বৈদেশিক সামরিক বিক্রি আবারও চালু করা হবে।

গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং শি জিনপিং (Xi Jinping)-এর বৈঠকেও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির যেকোনো সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান (Iran) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেস গত জানুয়ারিতে তাইওয়ানের জন্য অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। তবে সেটি কার্যকর করতে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।

এদিকে তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম এফটিভি নিউজের বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই বলেছেন, তাইওয়ান অস্ত্র ক্রয়ের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখবে।

ক্রাইসিস গ্রুপ (Crisis Group)-এর উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নতুন উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি করবে। একই সঙ্গে তাইওয়ান সরকারের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজটি অনুমোদন “করতেও পারেন” আবার “নাও করতে পারেন”।

চীন দীর্ঘদিন ধরে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে তাইপের প্রতি ওয়াশিংটনের অনানুষ্ঠানিক সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনেরও বিরোধিতা করছে বেইজিং।

সূত্র: আল জাজিরা