পু’\লিশকে আবারও ‘দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী’ বানানোর চেষ্টা হচ্ছে— অ’\ভিযোগ হাসনাত আব্দুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ (Hasnat Abdullah) অ’\ভিযোগ করেছেন, সরকারি দলীয় নির্দেশের অপেক্ষায় থেকে পু’\লিশ আবারও আগের রাজনৈতিক সময়ের মতো আচরণ করতে শুরু করেছে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ আমলে যেভাবে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দলের নির্দেশ বাস্তবায়নে পু’\লিশকে ‘পেটুয়া বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, এখনো একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) ঝিনাইদহ জেলা শহরের পায়রা চত্বরে আয়োজিত দলীয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পু’\লিশ সদস্যদের পোস্টিং, প্রমোশন ও পদায়নের ভয় দেখিয়ে তাদের আবারও দলীয়ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। তিনি পু’\লিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “৫ আগস্ট এবং জুলাইয়ের ঘটনাগুলো মনে রাখুন। বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগের দলদাস হয়ে পু’\লিশ যেই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিল, আমরা বিশ্বাস করি আপনারা পু’\লিশ বাহিনীকে আবার সেই পথে ঠেলে দেবেন না।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই পু’\লিশের উচিত নিরপেক্ষ থেকে জনগণের আস্থা ধরে রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য কারামুক্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারিকুল ইসলাম ওরফে তারেক রেজা (Tarikul Islam), সাইদ মোস্তাফিজ, শাহরিন ইরা, জাতীয় ছাত্র শক্তির সভাপতি জাহিদ হাসান, জাতীয় যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক রিফাত রশিদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিচার বিভাগ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, বিএনপি বিচার বিভাগকে আবার দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগকে আবার আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা ৫ আগস্টের পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছিলাম। কিন্তু সেই সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগকে আবার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পোস্টিং ও প্রমোশনকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে বিচারকদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “সারা দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। হামে শিশু মারা যাচ্ছে, নিউমোনিয়ায় শিশু মারা যাচ্ছে, শিশুদের ধ’\র্ষণ করা হচ্ছে। সরকার শিশুদের সুরক্ষায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, জনগণের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।