লাল কার্ডের নাটক, গোলের দাপট—৯৬ বছরের অপেক্ষা ভেঙে বিশ্বকাপ শুরু করল মেক্সিকো

তিনটি লাল কার্ড, সমান সংখ্যক হলুদ কার্ড এবং একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় ভরপুর ম্যাচ। তবে উত্তেজনার এই আবহেও ফলাফলের দিক থেকে ছিল একেবারেই একপেশে। বল দখল, আক্রমণ গঠন কিংবা গোলে শট—কোনো বিভাগেই মেক্সিকোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে মেক্সিকো (Mexico)।

এস্তাদিও আজতেকা (Estadio Azteca) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে স্বাগতিকরা। এর আগে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সাতবার মাঠে নেমেও জয়ের মুখ দেখেনি মেক্সিকো। এবার সেই দীর্ঘ ৯৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচল নিজেদের সমর্থকদের সামনে।

ম্যাচের ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন জুলিয়ান কুইনোনেস (Julian Quinones)। এরপর ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল (Raul)। শেষ পর্যন্ত এই দুই গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রা শুরু হয় হতাশাজনক পরাজয়ে।

২০১০ বিশ্বকাপে দুই দলের শেষ দেখা হয়েছিল, যেখানে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে এবার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে মেক্সিকো এবং নেয় ১৬টি শট। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার শটের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, যা তাদের আক্রমণভাগের অসহায় অবস্থারই প্রতিফলন।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই রাউলের জোরালো প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস। কিন্তু অল্প সময় পরই ভেঙে যায় তাদের রক্ষণ। দ্রুতগতির আক্রমণে কুইনোনেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তার আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

বিরতির পর ম্যাচে যোগ হয় নতুন নাটক। ৪৮ মিনিটে গুতিয়েরেজকে ফাউল করে সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও চেপে বসে মেক্সিকো। ৬৭ মিনিটে আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস থেকে রাউল দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ২-০ করেন। চারটি বিশ্বকাপ খেলা রাউলের জন্য এটি ছিল আসরের ইতিহাসে প্রথম গোল।

ম্যাচের শেষভাগে উত্তেজনা আরও বাড়ে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে আলভারাদোকে চড় মারার ঘটনায় জুয়ানে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ জনের দলে নেমে আসে। এরপর যোগ করা সময়ে মাদ্দাওকে ফাউল করে মেক্সিকোর মন্তেসও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে।

তবে শেষ মুহূর্তের সেই নাটকীয়তা ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। একচেটিয়া আধিপত্যের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের শুভসূচনা করেছে মেক্সিকো এবং একই সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে।